চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস দমনে যৌথবাহিনী নামানোর পরামর্শ দিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, সম্প্রতি চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তৎপরতা বেড়েছে। এই অবস্থায় যৌথবাহিনীর মাধ্যমে নিয়মিত অভিযান চালানো প্রয়োজন।
রোববার (১৩ জুলাই) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
নুরুল হক নুর বলেন, “আমরা দেখছি, কোনও রাজনৈতিক দল চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস বা খুনকে প্রকাশ্যে সমর্থন করছে না। কিন্তু বাস্তবে যখন প্রশাসন কাউকে ধরে, তখন সেই দলের নেতাকর্মীরা থানায় গিয়ে তাকে ছাড়িয়ে আনে। এটি দ্বিচারিতা।”
তিনি আরও বলেন, “যৌথবাহিনী সুস্পষ্ট তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযান চালালে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চলকেন্দ্রিক সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের দমন এখন জরুরি।”
স্থানীয় সরকারের অনুপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, “এখন দেশে কোনও কার্যকর জনপ্রতিনিধি নেই। মেয়র, কাউন্সিলর, উপজেলা চেয়ারম্যান কেউ নেই। ফলে প্রশাসনিক কাজগুলো সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। ইউএনওদের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো হচ্ছে। এজন্য জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন হওয়া প্রয়োজন।”
দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রসঙ্গ টেনে নুর বলেন, “বাংলাদেশ ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ। হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলমান সবাই এখানে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে। ৫ আগস্টের ঘটনার পর সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ উঠলেও অনেক ক্ষেত্রেই তা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থেকে ঘটেছে। মানুষ সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছে, আওয়ামী লীগ নেতারা বলেছিল ক্ষমতা ছাড়লে ৫ লাখ লাশ পড়বে, বাস্তবে ৫০০ জনও নিহত হয়নি।”
তিনি ছাত্র-জনতার সহনশীল ভূমিকায় প্রশংসা করেন এবং বলেন, “এটা প্রমাণ করে মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে, কিন্তু সহিংসতা নয়।”
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সদস্য সচিব জাহিদুল করিম কচি। উপস্থিত ছিলেন কালের কণ্ঠের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান মুস্তফা নঈম, এনটিভির চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান শামসুল হক হায়দরী, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান, বৈশাখী টিভির ব্যুরো প্রধান গোলাম মওলা মুরাদ প্রমুখ।





