চট্টগ্রাম নগরজীবন যেন প্রতিনিয়ত শব্দ ও ধোঁয়ার আস্তরণে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে। স্কুল শেষে মা’র সাথে বাড়ি ফেরার পথে একটি শিশু কান চেপে ধরে দাঁড়িয়ে—এই দৃশ্য যেন স্পষ্ট করে বলে দেয়, শহরের পরিবেশ শিশুদের জন্য কতটা অনিরাপদ হয়ে উঠেছে।
বর্তমানে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক যেমন আগ্রাবাদ, জিইসি, বহদ্দারহাট, চকবাজার ও টাউন এলাকা যানজট ও শব্দ দূষণের কারণে চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়েছে। প্রতিনিয়ত গাড়ির হর্ন, অব্যবস্থাপনায় চলা নির্মাণকাজ, ও কারখানার নির্গত কালো ধোঁয়ায় জনজীবন অতিষ্ঠ।
পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে শব্দ দূষণের মাত্রা ৭৫-৮৫ ডেসিবেলের মধ্যে, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশকৃত সীমা (৫৫ ডেসিবেল) থেকে অনেক বেশি। বায়ু দূষণ সূচকেও শহরটি এখন দেশের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশুবিশেষজ্ঞ ডা. ফারহানা ইয়াসমিন বলেন,
“দূষণের কারণে শিশুদের মধ্যে হাঁপানি, চর্মরোগ, শ্বাসকষ্ট ও মানসিক অস্থিরতা বেড়েই চলেছে। পরিবেশ নিরাপদ না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্য ঝুঁকি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।”
এদিকে পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর অভিযোগ, পুরোনো ও ধোঁয়াযুক্ত গাড়ি বন্ধে যথাযথ নজরদারি নেই। নির্মাণস্থলে সুরক্ষা ব্যবস্থা মানা হয় না, রাস্তার ধারে খোলা বালু-সিমেন্ট পড়ে থাকায় প্রতিদিন ধুলোর ঝড় ওঠে।
নগরবাসী চায় দ্রুত পদক্ষেপ। চকবাজার এলাকার বাসিন্দা হাসান মাহমুদ বলেন,
“বাচ্চাদের নিয়ে রাস্তায় বের হলে এক হাতে মাস্ক, অন্য হাতে কান চেপে ধরি। এটা কোনো সভ্য শহরের চিত্র হতে পারে না।”
কী করণীয়?
পরিবেশবিদরা বলছেন—
✅ কঠোরভাবে শব্দ ও বায়ু দূষণ আইন বাস্তবায়ন
✅ পুরাতন যানবাহনের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা
✅ শহরজুড়ে সবুজায়ন কার্যক্রম জোরদার
✅ নির্মাণকাজে সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত
✅ নাগরিকদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি
শুধু উন্নয়ন নয়, আগামী প্রজন্মের নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য এখনই চাই কার্যকর পরিবেশ রক্ষা পরিকল্পনা।





