দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ৫৫ টাকার পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকায়। পাইকারি ও খুচরা বাজারে দৃশ্যমান কোনো সংকট না থাকলেও সরবরাহ কমার অজুহাত। এ সংকট নিরসনে ব্যবসায়ীরা চান পেঁয়াজ আমদানি করতে। কিন্তু স্থানীয় কৃষকদের কথা ভেবে পেঁয়াজ আমদানিতে আগ্রহ নেই সরকারের। এতে আগামী অক্টোবর অর্থাৎ নতুন পেঁয়াজ না আসা পর্যন্ত দাম আরও কিছুটা বাড়তে পারে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) নগরীর খাতুনগঞ্জ, অলংকার, জামাই বাজার বহদ্দারহট, পাহাড়তলীসহ বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে জানা যায়, প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৮০-৮৫ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৬০ টাকা এবং দুই সপ্তাহ আগে ৫৫-৬০ টাকা। পাইকারি পর্যায়েও একই প্রবণতা। খাতুনগঞ্জ বাজারে প্রতি পাল্লা (৫ কেজি) পেঁয়াজের দাম প্রথমে বেড়েছে ২৫০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকায়। পরের সপ্তাহে ২৫ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭৫ টাকা।
জামাই বাজারের বিক্রেতা ্জসিম বলেন, ‘এখন তো পেঁয়াজের ডাল-সিজন (মন্দা)। পেঁয়াজ ছোট সাইজের দাম ৮০ টাকা আর একটু বড় সাইজের গুলো ৮৫ টাকা। সাপ্লাই না থাকায় রেট একটু বেড়েছে। যদি পেঁয়াজ না আসে তাহলে আরও বাড়বে।’
আড়তদারদের দাবি, ভারি বর্ষণ ও মৌসুমের শেষের কারণে মোকামগুলোতে সরবরাহ কমে গেছে, পাশাপাশি বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকায় বাজার পুরোপুরি দেশি পেঁয়াজের ওপর নির্ভরশীল। কুষ্টিয়া, ফরিদপুর ও পাবনাসহ উত্তরবঙ্গের জেলা থেকে সরবরাহ এলেও তা পর্যাপ্ত নয়। তাছাড়া ট্রাক ভাড়া ও পরিবহন খরচের দাম বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলছে।
নগরীর অন্যতম পাইকারি বাজার, খাতুনগঞ্জ বাজারে ভালোমানের দেশি পেঁয়াজ পাইকারি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৭০-৭৫ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৫৫-৫৮ টাকা। মাঝারি মানের পেঁয়াজের দামও একই সময়ে কেজিপ্রতি ১৫-১৮ টাকা বেড়েছে। খুচরা পর্যায়ে এই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০ টাকায়।
একই বিষয়ে জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জ হামিদউল্ল্যাহ মিঞা মার্কেটের ব্যবসায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিস জানান, ‘পেঁয়াজের দাম কিছুটা বাড়ার পর এখন স্থিতিশীল আছে। পাইকারীতে গত সপ্তাহে ৭০ টাকা থেকে ৭৫ টাকা হয়েছে। আজকেও একই রেট চলছে। আর এলসি খোলার একটা কথা আছে। সরকার স্থানীয় কৃষকদের কথা ভেবে এলসি বন্ধ রাখে। এখন ক্রাইসিস নিয়ে সরকারের সঙ্গে কথা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) এলসি খোলার কথা ছিলো। কিন্তু না খোলার কারণে দাম একটু বাড়তি আছে। এলসি খুললে পেঁয়াজের দাম আবার ৫০ টাকার মধ্যে চলে আসবে।’
জানা যায়, পেঁয়াজ আমদানি নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কোনো আপত্তি না থাকলেও এলসি (ঋণপত্র) খোলায় স্থগিতাদেশ রেখেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। কৃষি মন্ত্রণালয়ের এ আদেশের কারণে দেশে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রয়েছে। অর্থাৎ দেশীয় পেঁয়াজ দিয়ে চাহিদা মেটানো হচ্ছে।
এ নিয়ে জানতে চাইলে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আইন অধিশাখার যুগ্ম সচিব ড. মো. মোকতার হোসেন বলেন, ‘স্থানীয় কৃষকদের কথা ভেবেই পেঁয়াজ আমদানিতে সরকার উৎসাহিত করছেন না। তবে পেঁয়াজের মজুদ কি পরিমান আছে, তা বিবেচনা করে সরকার চাইলেই এলসি খুলে দিতে পারে। এলসি খুলতে ডলার সংক্রান্ত কোনো সমস্যা নাই। তাই সরকার যে কোনো মূহুর্তেই তা করতে পারে। এটি নিয়ে সঠিক তথ্য দিতে পারে কৃষি বিপনণ অধিদপ্তর।’
এদিকে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের বাজার সংযোগ, গবেষণা, রপ্তানী উন্নয়ন এবং কৃষি ব্যবসা শাখার পরিচালক মোহাম্মদ মুনসুর আলম খান বলেন, ‘কৃষকদের কথা বিবেচনায় আমদানি বন্ধ রাখা হয়েছে। আর পেঁয়াজের যে চাহিদা, সে অনুপাতে আমাদের উৎপাদনও হয়েছে। কিন্তু পেঁয়াজ শুকিয়ে যাওয়ার কারণে ওজন কমে গেছে। এরপরও আশা করি কোনো ঘাটতি হবে না। তাই দাম নিয়ে ব্যবসায়ীদের মনিটরিংয়ে আনা হবে। অক্টোবরে নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসা শুরু হবে। এরমধ্যে যদি ঘাটতি মনে হয়, সরকার যে কোনো মূহুর্তে এলসি খোলার সুযোগ করে দিবে।’





