কুমিল্লায় টানা ভারি বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে গোমতী নদীর পানি প্রতি ঘণ্টায় ১০ সেন্টিমিটার করে বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এতে নদীর বাঁধের ভেতরের জমি ও বসতি ডুবতে শুরু করেছে।
তবে গোমতীর পানির উচ্চতা বুধবার বেলা ৩টা পর্যন্ত বিপৎসীমার আড়াই মিটার নিচে রয়েছে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালীউজ্জামান।
মঙ্গলবার বেলা ৩টা থেকে বুধবার বেলা ৩টা পর্যন্ত কুমিল্লা জেলায় ১২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এদিকে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গোমতীর চরের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এ ছাড়া টানা ভারি বৃষ্টিতে শহরের নিম্নাঞ্চল পানিতে ডুবে গেছে, জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে নিচু এলাকায়।
দুপুরে গোমতী নদীর টিক্কার চর, চাঁনপুর ব্রিজ ও সংরাইশ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চরাঞ্চলের কিছু কিছু স্থান পানিতে তলিয়ে গেছে।
সংরাইশ এলাকার বাসিন্দা নূরে আলম বলেন, “সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি, পানি ঘরের একদম কাছাকাছি চলে এসেছে। আমরা খুব আতঙ্কে আছি। গত বছর বন্যায় আমাদের ঘরবাড়ি ভেসে গিয়েছিল।
“এলাকার লোকজন মিলে আমাদের নতুন ঘর তুলে দিয়েছিল। আবার যদি ঘর ভেসে যায়, তাহলে আমাদের পথে থাকতে হবে।”
টিক্কার চর এলাকার বাসিন্দা পারভেজ আলম বলেন, “মঙ্গলবার বিকালেও এত পানি ছিল না। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি পানি অনেক বেড়েছে। এভাবে বাড়তে থাকলে বিকালের মধ্যে পানি বিপৎসীমার ওপরে চলে যেতে পারে।”
বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভির আহমেদ বলেন, গোমতীর পানি এখনো বিপৎসীমার ১০ ফুট নিচে আছে। আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। তবে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, ‘গোমতীর চরের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। হঠাৎ পানি এভাবে বাড়বে, তা আমরা আগে বুঝতে পারি নাই। সরেজমিনে গোমতীর পাড় ঘুরে দেখছি।”





