শুক্রবার, মে ১৫, ২০২৬
spot_img

সংখ্যালঘু হত্যা-সহিংসতায় সাম্প্রদায়িকতার প্রমাণ পায়নি পুলিশ

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও সংখ্যালঘু ঐক্য মোর্চার ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে ২৭ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া গত ১১ মাসে মোট ২ হাজার ৪৪২টি সাম্প্রদায়িক হামলা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ তদন্ত চালিয়েছে। জানিয়েছে, ঐক্য পরিষদের সব অভিযোগই ভিত্তিহীন। এতে সাম্প্রদায়িকতার কোনো প্রমাণ মেলেনি।

আজ মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) বাংলাদেশ পুলিশ সদর দফতরের গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

বলা হয়, ২৭ মৃত্যুর ঘটনায় ২২টিতে নিয়মিত হত্যা মামলা এবং ৫টির ক্ষেত্রে অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের তদন্তে দেখা গেছে, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই জনের প্রাণহানি হয়। তারমধ্যে একটি ভাতিজা হত্যা করেছে চাচাকে। আরেকটি হত্যার ঘটনা চাচাতো ভাইদের মধ্যে মারামারিতে।

আর্থিক লেনদেনের জেরে দুইজনের প্রাণহানি হয়। তারমধ্যে মাদক কেনাবেচার টাকা পাওনা নিয়ে একজন ও অপরটি ডাকাতির ঘটনা।

অন্যদিকে দস্যুতার ঘটনায় ৭ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্য সন্দেহে প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপের গুলিতে একজন, তরমুজ ক্রয়-বিক্রয়কে কেন্দ্র করে মারামারিতে আরেকজন নিহত হয়। গলায় ফাঁস নিয়ে তিন জনের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এমন ১১ জনের। এদের মধ্যে রয়েছে ভবঘুরে, মানসিক ভারসাম্যহীন। জুম চাষে গিয়ে নারী নিহত, তামাক ক্ষেত থেকে পাতা কুড়াতে যাওয়া নারীর মৃতদেহ উদ্ধার, বাড়ির পাশ হতে মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনাকেও সংখ্যালঘু হত্যা বলে দাবি করা হয় বলে জানায় পুলিশ।

এসব হত্যার ঘটনায় এরইমধ্যে মোট ৪৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ১৫ আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করেছে। এদের ১৮ জন ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীও দিয়েছে। তদন্তে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে কোনো সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রমাণ পায়নি পুলিশ।

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ তাদের সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করে, গত ১১ মাসে সংখ্যালঘু ধর্ষণ, গণধর্ষণ ও যৌন হয়রানির ২০টি ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের ভাষ্য, এরমধ্যে ১৬টি ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং পুলিশ ২৫ জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে।

তিনটি ঘটনায় এখনও কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি। রাজশাহীর তানোরে এক আদিবাসী নারী ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা মেলেনি। বরং অভিযোগকারীর সঙ্গে অভিযুক্তের আগে থেকেই পারিবারিক বিরোধ ছিল বলে জানা গেছে। মাগুরার শ্রীপুরের হরিনন্দীগ্রামে ডাকাতির পর গৃহবধূ গণধর্ষণের অভিযোগও তদন্তে সত্য প্রমাণিত হয়নি এবং কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।

এ সময় জানানো হয়, গত বছর ৫ আগস্ট থেকে চলতি বছরের ২ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ও উপাসনালয় ঘিরে ১২৭টি সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এরমধ্যে ৬৬টি ঘটনায় মামলা এবং ৬১টি ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। মামলাগুলোয় মোট ৬৪ জন গ্রেফতার হয়েছে।

বলা হয়, মন্দির বা পারিবারিক মন্দিরে চুরি, প্রতিমা বা স্থাপনায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, জমি দখল ও উচ্ছেদের চেষ্টা সংক্রান্ত ৬০টি অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ জানায়, এসব ঘটনার মধ্যে ২০টি চুরির ঘটনা তদন্তে উঠে এসেছে। যার মধ্যে ১৪টি নিয়মিত মামলা এবং ৫টি জিডি হয়েছে। প্রতিমা বা মন্দির ভাঙচুরের ২৪টি ঘটনার মধ্যে ১৮টি মামলা এবং ৪টি জিডি হয়েছে। এসব মামলায় ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ১০ জন আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। একটি চুরি এবং দুটি ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।

অগ্নিসংযোগের চারটি ঘটনার মধ্যে দুইটির পেছনে কোনো নাশকতার প্রমাণ মেলেনি। জমি ও সীমানা নিয়ে জটিলতা ছিল এমন চারটি ঘটনার দুইটি স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যস্থতায় সমাধান হয়েছে। ছয়টি জায়গা দখলের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।

খিলক্ষেতের বাংলাদেশ রেলওয়ের জায়গায় থাকা অস্থায়ী পূজামণ্ডপ উচ্ছেদ করা হয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে। বগুড়ায় শ্মশানঘাটের পিলার ভাঙার ঘটনায় প্রশাসনের উদ্যোগে নতুন করে শ্মশানঘাট নির্মাণ করা হয়েছে।

এদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তখন তারা জানান, সংঘটিত ঘটনাসমূহ পরবর্তীতে সুনির্দিষ্টভাবে খতিয়ে দেখবে তারা। এমনকি অন্য কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে, প্রত্যেকটি ঘটনায় তারা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে এবং সকল স্থাপনা ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

সর্বশেষ

ঈদুল আজহার ছুটির প্রজ্ঞাপন জারি

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত,...

একনেকে অনুমোদন পেল পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে...

সোনিয়া গান্ধী হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরলেন

শারীরিক জটিলতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল ভারতীয় কংগ্রেসের...

৩ লাখ ৭৭ হাজার অতিক্রম করল সর্বজনীন পেনশন স্কীমের নিবন্ধন

দেশের সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় আগ্রহ বাড়ছে। গত ৩০ এপ্রিল...

জনপ্রিয়

সাকিব আল হাসানের গোপনে করা সিনেমার শুটিংয়ের ছবি প্রকাশ

গোপনে চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন সাকিব আল হাসান। কিন্তু সেই...

মহাত্মা আহমদ ছফার জন্মদিন

আজ স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তিমান ও দ্রোহী চেতনার লেখক...

নির্বাচন পিছিয়ে দিয়ে একটি গোষ্ঠী জাতির সর্বনাশ করতে চাচ্ছে: মির্জা আব্বাস

একটি গোষ্ঠী নির্বাচন পিছিয়ে দিয়ে জাতির সর্বনাশ করতে চাচ্ছে...

চট্টগ্রামে যান্ত্রিক ত্রুটি নিয়ে রানওয়েতে আটকে পড়ে হজযাত্রীদের ফ্লাইট

সৌদি আরবের মদিনা থেকে আসা হজযাত্রীদের একটি ফ্লাইট যান্ত্রিক...

চট্টগ্রামের রাউজান থেকে আজমানে গিয়ে আবাসন সম্রাট, অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন

চট্টগ্রামের রাউজানের জসিম উদ্দিন আবাসন-সাম্রাজ্য গড়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের...

ইরানে আদালত ভবনে জঙ্গি হামলা, নিহত ৫

ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সিস্তান-বালুচিস্তান প্রদেশের জাহেদানে একটি আদালত ভবনে সুন্নি...

অনলাইনেই হবে আমদানি-রপ্তানি শুল্ক-কর পরিশোধ

আমদানি-রপ্তানির শুল্ক-কর ‘এ চালান’ বা অটোমেটেড চালানের মাধ্যমে অনলাইনে...

রাখাইনে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছা, নিরাপদ, সম্মানজনক ও টেকসই প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে...
spot_img

এই বিভাগের আরো খবর

Popular Categories

spot_imgspot_img