শুক্রবার, মে ১৫, ২০২৬
spot_img

যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে সৌদির ‘না’: ইরানে হামলায় ক্ষেপণাস্ত্র দিতে অস্বীকৃতি

ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরাইল বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়লে, যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে ‘টার্মিনাল হাই অল্টিচিউড এরিয়া ডিফেন্স’ বা থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কিছু ইন্টারসেপটর ইসরাইলকে সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছিল।

কিন্তু রিয়াদ যুক্তরাষ্ট্রের সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই-কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুই মার্কিন কর্মকর্তা।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ‘যুদ্ধ চলাকালে আমরা অনেক দেশের কাছেই অনুরোধ জানিয়েছি কিছু সরঞ্জাম দিতে। যখন কোথাও ব্যর্থ হয়েছি, তখন বিকল্প উপায় খুঁজেছি—সমঝোতা কিংবা বিনিময়। তবে এটা কোনো নির্দিষ্ট দেশের প্রতি ইঙ্গিত ছিল না।’

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌদি আরব ছিল অন্যতম সেই দেশ, যারা এমন সহায়তা দিতে সক্ষম ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারাও ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরান শুধু ইসরাইল নয়, বরং উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্যও হুমকি।

এই সংঘাতের সময়, যুদ্ধবিরতির মাত্র নয় দিন পর, ৩ জুলাই সৌদি সামরিক বাহিনী প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের টিএচএএডি ব্যাটারি চালু করে। এটি সৌদি সরকার তাদের নিজস্ব অর্থায়নে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কিনেছিল।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র আশঙ্কা করেছিল যে, ইরানের ব্যাপক ব্যালিস্টিক হামলায় ইসরাইলের জন্য সংরক্ষিত যুক্তরাষ্ট্রীয় ইন্টারসেপটরের মজুদ বিপজ্জনকভাবে কমে যেতে পারে।

মিডল ইস্ট আই-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের হামলায় ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা—বিশেষ করে অ্যারো ও টিএচএএডি ইন্টারসেপটর—দ্রুত ফুরিয়ে যেতে থাকে। পরবর্তীতে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও দ্য গার্ডিয়ান এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে।

দ্য গার্ডিয়ান জানায়, সংঘাতের পরে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে বিশ্বব্যাপী সামরিক কৌশলের জন্য প্রয়োজনীয় ‘প্যাট্রিয়ট’ ইন্টারসেপটরের মাত্র ২৫ শতাংশ অবশিষ্ট ছিল।

যদিও ইসরাইলের তিনস্তরের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা ছিল, তবু ইরান একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলি শহরগুলোতে আঘাত হানাতে সক্ষম হয়। দ্য টেলিগ্রাফ জানায়, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র অন্তত পাঁচটি ইসরাইলি সামরিক স্থাপনায় সরাসরি আঘাত হানে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ প্রমাণ করেছে, ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও সীমাবদ্ধতার মধ্যে পড়ে। ‘মিচেল ইনস্টিটিউট ফর এরোস্পেস স্টাডিজ’-এর নির্বাহী পরিচালক ডগলাস বারকি বলেন, ‘আমাদের ইন্টারসেপটরের সংখ্যা সীমিত। আমাদের উৎপাদন ক্ষমতাও সীমাবদ্ধ।’

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল আরও জানায়, মার্কিন কর্মকর্তারা জানতেন সৌদি আরবের হাতে টিএচএএডি ইন্টারসেপটর আছে। তারপরও তারা সেসব ইসরাইলকে দিতে সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেন। কিন্তু সৌদি আরব সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে।

এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র সংযুক্ত আরব আমিরাতকেও ইসরাইলকে ইন্টারসেপটর দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো সহায়তা এসেছে কি না, তা নিশ্চিত করেনি কোনো পক্ষ।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-ইসরাইল সংঘাত গালফ অঞ্চলের দেশগুলোকে নতুন করে ভাবিয়েছে। তারা উপলব্ধি করেছে—ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অপরাজেয় নয়। এ কারণে এসব তেলসমৃদ্ধ রাষ্ট্র এখন তাদের কূটনৈতিক অবস্থান পুনর্বিন্যাসে নেমেছে।

একজন আরব কূটনীতিক মিডল ইস্ট আই-কে বলেন, ‘আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে যুদ্ধের পরিণাম ইতিবাচক। ইসরাইল বুঝেছে, শক্তিশালী রাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের মূল্য কত বড় হতে পারে।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌদি আরব এখন ধীরে ধীরে তুরস্কের দিকে ঝুঁকছে এবং প্রয়োজনে ইরানের সঙ্গেও সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করতে পারে। ইউরেশিয়া গ্রুপের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের প্রধান ফিরাস মাকসাদ বলেন, ‘সিরিয়া, লেবানন, গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরাইলের লাগাতার হামলা সৌদি আরবের অবস্থানকে কঠোর করে তুলেছে। এখন যখন ইরান দুর্বল, তখন সৌদি নতুন করে তাদের কৌশল নির্ধারণ করছে।’

সর্বশেষ

ঈদুল আজহার ছুটির প্রজ্ঞাপন জারি

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত,...

একনেকে অনুমোদন পেল পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে...

সোনিয়া গান্ধী হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরলেন

শারীরিক জটিলতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল ভারতীয় কংগ্রেসের...

৩ লাখ ৭৭ হাজার অতিক্রম করল সর্বজনীন পেনশন স্কীমের নিবন্ধন

দেশের সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় আগ্রহ বাড়ছে। গত ৩০ এপ্রিল...

জনপ্রিয়

সাকিব আল হাসানের গোপনে করা সিনেমার শুটিংয়ের ছবি প্রকাশ

গোপনে চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন সাকিব আল হাসান। কিন্তু সেই...

মহাত্মা আহমদ ছফার জন্মদিন

আজ স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তিমান ও দ্রোহী চেতনার লেখক...

নির্বাচন পিছিয়ে দিয়ে একটি গোষ্ঠী জাতির সর্বনাশ করতে চাচ্ছে: মির্জা আব্বাস

একটি গোষ্ঠী নির্বাচন পিছিয়ে দিয়ে জাতির সর্বনাশ করতে চাচ্ছে...

চট্টগ্রামে যান্ত্রিক ত্রুটি নিয়ে রানওয়েতে আটকে পড়ে হজযাত্রীদের ফ্লাইট

সৌদি আরবের মদিনা থেকে আসা হজযাত্রীদের একটি ফ্লাইট যান্ত্রিক...

চট্টগ্রামের রাউজান থেকে আজমানে গিয়ে আবাসন সম্রাট, অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন

চট্টগ্রামের রাউজানের জসিম উদ্দিন আবাসন-সাম্রাজ্য গড়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের...

ইরানে আদালত ভবনে জঙ্গি হামলা, নিহত ৫

ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সিস্তান-বালুচিস্তান প্রদেশের জাহেদানে একটি আদালত ভবনে সুন্নি...

অনলাইনেই হবে আমদানি-রপ্তানি শুল্ক-কর পরিশোধ

আমদানি-রপ্তানির শুল্ক-কর ‘এ চালান’ বা অটোমেটেড চালানের মাধ্যমে অনলাইনে...

রাখাইনে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছা, নিরাপদ, সম্মানজনক ও টেকসই প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে...
spot_img

এই বিভাগের আরো খবর

Popular Categories

spot_imgspot_img