শুক্রবার, মে ১৫, ২০২৬
spot_img

৫ আগস্টের পর ভাগ্য খুলে যায় রিয়াদের, যেন পেয়েছিলেন ‘আলাদিনের চেরাগ’

ঢাকার গুলশানে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) শাম্মী আহমেদের বাসায় গিয়ে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজন নেতা। পুলিশ জানায়, পরে আরও ৪০ লাখ টাকা দাবি করলে তাদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

গুলশান থানা পুলিশের অভিযানে গত শনিবার রাতে সংগঠনটির সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুর রাজ্জাক সোলাইমান রিয়াদসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে চারজনকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। অপর একজনের বয়স কম হওয়ায় তাকে পাঠানো হয়েছে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে।

এ বিষয়ে সিদ্দিক আবু জাফর গুলশান থানায় করা মামলায় উল্লেখ করেন, প্রথম দফায় নিজের কাছে থাকা পাঁচ লাখ এবং ভাইয়ের থেকে ধার নিয়ে আরও পাঁচ লাখ টাকা দেন রিয়াদ ও অপুকে।

আবারও ৪০ লাখ টাকা দাবি: চাঁদা দেওয়ার পরও থেমে থাকেনি চক্রটি। ১৯ জুলাই দ্বিতীয় দফায় বাসায় এসে আরও টাকা দাবি করে তারা। সর্বশেষ গত শনিবারও তারা আবার গিয়ে ৪০ লাখ টাকা দাবি করে এবং না দিলে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। সেসময় গুলশান থানা পুলিশ গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে রিয়াদসহ পাঁচজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। কাজী গৌরব ওরফে অপু পালিয়ে যান।

পুলিশ যা বলছে: ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অপারেশন্স) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এই ছেলেরা ভয় দেখানোর জন্য পুলিশকে ট্রাম্প কার্ড বানিয়েছে। পুলিশকে নিয়ে গিয়ে দেখিয়েছে, আমরা কিন্তু আপনাকে যখন–তখন ধরিয়ে দিতে পারি। তার পরদিনই টাকা নেয়। এরপর আমরা নজরদারি বাড়িয়ে হাতেনাতে ধরেছি।’

রিমান্ডে ৪ জন, একজন কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে: মামলায় রিয়াদ, সাকদাউন সিয়াম, সাদমান সাদাব, ইব্রাহিম হোসেন ও আরও একজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ইব্রাহিম ঢাকার কমিটির আহ্বায়ক এবং সিয়াম ও সাদাব সদস্য। আদালত চারজনকে সাত দিনের রিমান্ডে এবং একজনকে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

জুলাই চেতনা থেকে চাঁদাবাজি পর্যন্ত: রিয়াদ আগে কাদের মির্জার ক্যাডার ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁর জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আসে। দামি ব্র্যান্ডের পোশাক, গ্রামে পাকা বাড়ি নির্মাণ এবং কোরবানিতে লাখ টাকা দামের গরু—সব মিলিয়ে তাঁর বিত্তবৈভব নিয়ে এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়।

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নে রিয়াদের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে জানা গেছে, সেখানে তিনি একতলা একটি পাকা ভবন নির্মাণ করছেন, যার ছাদ ঢালাই শেষ হয়েছে মাত্র। প্রকৌশলীরা জানান, এ পর্যন্ত কাজ করতে খরচ হতে পারে প্রায় ১৫ লাখ টাকা।

রিয়াদের গ্রামে গিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা বলেন, আর্থিক অনটনের মধ্যে বেড়ে ওঠা একজন ছাত্রের বাড়িতে হঠাৎ পাকা ভবন নির্মাণ নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে। এ আলোচনায় নতুন মাত্রা পেয়েছে চাঁদাবাজির অভিযোগে রিয়াদের গ্রেপ্তারের ঘটনা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রিয়াদের এক চাচি গণমাধ্যমকে বলেন, রিয়াদের বাবা ও বড় ভাই দুজনই রিকশা চালাতেন। এখন চালান না। রিয়াদ ঢাকার কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেন বলে শুনেছেন।

‘আমার ছেলে ষড়যন্ত্রের শিকার’—রিয়াদের মা: রিয়াদের মা রেজিয়া বেগম জানান, তাঁর দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। ছোট ছেলে রিয়াদ ঢাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন। বড় ছেলে ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তবে বড় ছেলে ফুটপাতে ব্যবসা করেন, এমন কথাও বলেন রেজিয়া বেগম।

তিনি আরও বলেন, ছোট ছেলেকে মানুষের সাহায্যে ঢাকায় পড়াতে পাঠিয়েছেন। বাড়ির নির্মাণে ব্র্যাক থেকে ঋণ নিয়েছেন, স্বামীর জমানো টাকাও ব্যবহার করেছেন। তাঁর দাবি, ছেলে নিরপরাধ, ষড়যন্ত্রের শিকার।

প্রতিক্রিয়া ও নিন্দা: বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা। তিনি লিখেছেন, “এই প্রথম পুলিশ হাতে ধরা খেল ওরা, অথচ ওদের শিকড় আরও গভীরে।”

একাধিক আইনজীবী আদালতে আসামিদের উদ্দেশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। শুনানি শেষে আদালত প্রাঙ্গণেও তাদের প্রতি কটূক্তি করা হয়।

পুলিশ বলছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এই অংশটি এখন একটি সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্রে রূপ নিয়েছে। যেসব তরুণ ‘ছাত্র প্রতিনিধি’ পরিচয়ে বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করত, তারা এখন চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে।

 

সর্বশেষ

ঈদুল আজহার ছুটির প্রজ্ঞাপন জারি

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত,...

একনেকে অনুমোদন পেল পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে...

সোনিয়া গান্ধী হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরলেন

শারীরিক জটিলতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল ভারতীয় কংগ্রেসের...

৩ লাখ ৭৭ হাজার অতিক্রম করল সর্বজনীন পেনশন স্কীমের নিবন্ধন

দেশের সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় আগ্রহ বাড়ছে। গত ৩০ এপ্রিল...

জনপ্রিয়

সাকিব আল হাসানের গোপনে করা সিনেমার শুটিংয়ের ছবি প্রকাশ

গোপনে চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন সাকিব আল হাসান। কিন্তু সেই...

মহাত্মা আহমদ ছফার জন্মদিন

আজ স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তিমান ও দ্রোহী চেতনার লেখক...

নির্বাচন পিছিয়ে দিয়ে একটি গোষ্ঠী জাতির সর্বনাশ করতে চাচ্ছে: মির্জা আব্বাস

একটি গোষ্ঠী নির্বাচন পিছিয়ে দিয়ে জাতির সর্বনাশ করতে চাচ্ছে...

চট্টগ্রামে যান্ত্রিক ত্রুটি নিয়ে রানওয়েতে আটকে পড়ে হজযাত্রীদের ফ্লাইট

সৌদি আরবের মদিনা থেকে আসা হজযাত্রীদের একটি ফ্লাইট যান্ত্রিক...

চট্টগ্রামের রাউজান থেকে আজমানে গিয়ে আবাসন সম্রাট, অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন

চট্টগ্রামের রাউজানের জসিম উদ্দিন আবাসন-সাম্রাজ্য গড়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের...

ইরানে আদালত ভবনে জঙ্গি হামলা, নিহত ৫

ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সিস্তান-বালুচিস্তান প্রদেশের জাহেদানে একটি আদালত ভবনে সুন্নি...

অনলাইনেই হবে আমদানি-রপ্তানি শুল্ক-কর পরিশোধ

আমদানি-রপ্তানির শুল্ক-কর ‘এ চালান’ বা অটোমেটেড চালানের মাধ্যমে অনলাইনে...

রাখাইনে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছা, নিরাপদ, সম্মানজনক ও টেকসই প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে...
spot_img

এই বিভাগের আরো খবর

Popular Categories

spot_imgspot_img