নোয়াখালীর মাইজদী পৌর এলাকায় স্বামী, শাশুড়ি ও দেবরকে আটকে রেখে এক গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টা করেছে ৬/৭ জন যুবক। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে দুইজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় লোকজন।
ভুক্তভোগী গৃহবধূ জানান, গত শুক্রবার (২২ আগস্ট) ভোরে তার স্বামী রাগ করে বাড়ি থেকে বের হয়ে মাইজদী পৌর বাজারে চলে যান। তিনিও স্বামীর পিছু নিয়ে মাইজদী পৌর বাজারে যান এবং স্বামীকে খুঁজে বের করেন। কিন্তু এক পর্যায়ে তারা পৌর বাজারের একটি দোকানের সামনে ঝগড়া শুরু করেন।
গৃহবধূ আরও জানান, ঝগড়ার এক পর্যায়ে দুইজন যুবক তাদের দিকে এগিয়ে আসে এবং তাদের পরিচয় ও সম্পর্ক জানতে চায়। তিনি তাদেরকে স্বামী-স্ত্রী বলে পরিচয় দেন। এরপরও ওই দুই যুবক তার স্বামীকে মারধর করেন এবং বিষয়টি সমাধান করে দেয়ার কথা বলে তাদেরকে বাজারের একটি পরিত্যাক্ত ভবনের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যায়।
গৃহবধূ বলেন, সেখানে ওই যুবকের সাথে আরও ৪/৫ জন যুক্ত হয় এবং তারা তার স্বামীকে একটি কক্ষে ও তাকে আরেক কক্ষে নিয়ে যায়। এর মধ্যে বিষয়টি তার স্বামী বাড়িতে জানান। ঘটনা শুনেই তার মা ও ছোট ভাই দ্রুত ঘটনাস্থলে আসে।
এরপর তারা তার শাশুড়ি ও দেবরকে একটি কক্ষে আটকে রাখে এবং তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। গৃহবধূ জানান, ৬/৭ জন যুবক তার পরনের জামা-কাপড় ছিঁড়ে ফেলে। এ সময় তাদের সাথে তার ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এক পর্যায়ে তিনি সেই কক্ষ থেকে বের হতে সক্ষম হন এবং দ্বিতীয় তলার ছাদ থেকে নিচে লাফ দেন।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তদের মধ্যে হানিফ (২৯) ও কামরুল (৪৫) নামের দুজনকে আটক করেছে।
হানিফ জেলার সদর উপজেলার কাদিরহানিফ ইউনিয়নের দরবেশপুর গ্রামের ওলি উল্যার ছেলে। কামরুল একই ইউনিয়নের বাহাদিপুর গ্রামের আবুল কাশেমেরে ছেলে।
ওসি আরও জানান, ভুক্তভোগীর স্বামী আতিকুর রহমান নিরব রোববার রাতে বাদী হয়ে তিনজনকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনায় জড়িত অপর আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ।





