উত্তরের গাজা উপত্যকার জবলিয়া ও গাজা সিটির বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে নতুন করে সামরিক অভিযান চালাতে যাচ্ছে ইসরায়েল। রোববার (২৯ জুন) সকাল থেকে বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ শুরু করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। একইসঙ্গে গাজা উপত্যকার বাসিন্দাদের দক্ষিণের খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি ‘মানবিক আশ্রয় কেন্দ্রে’ চলে যেতে বলা হয়েছে। খবর রয়টার্স।
সেই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ অবসানের আহ্বান জানিয়েছেন। রবিবার (২৯ জুন) সকালে ট্রুথ সোশাল -এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “গাজায় চুক্তি করুন, জিম্মিদের ফিরিয়ে আনুন।”
এদিকে, গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জবলিয়ায় রাতভর হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে বহু মানুষ আহত হয়েছেন। খান ইউনিসে একটি টেন্ট শিবিরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় আরও পাঁচজন নিহত হন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “উত্তরের গাজায় হামাসের ঘাঁটি ধ্বংস করতে প্রবল শক্তি প্রয়োগ করা হচ্ছে এবং এই অভিযান আরও বিস্তৃত হবে।”
তবে জাতিসংঘ ও ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা বলেছেন, “গাজায় কোথাও নিরাপদ নয়।”
মিশর ও কাতারের মধ্যস্থতায় একটি নতুন যুদ্ধবিরতি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রও এতে সমর্থন দিয়েছে। হামাস জানিয়েছে, তারা আলোচনায় বসতে আগ্রহী, তবে শর্ত হলো যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ও ইসরায়েলের পূর্ণ প্রত্যাহার।
হামাসের মুখপাত্র বলেন, “আমরা এখনও জীবিত থাকা ২০ জন জিম্মিকে মুক্তি দিতে প্রস্তুত, কিন্তু যুদ্ধ বন্ধ না হলে কোনো সমঝোতা সম্ভব নয়।”
অন্যদিকে, ইসরায়েল বলছে, হামাসকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্র না করা পর্যন্ত যুদ্ধ শেষ হবে না।
২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের আকস্মিক হামলায় ইসরায়েলের এক হাজার ২০০ জন নিহত এবং ২৫১ জন জিম্মি হয়। সেই উত্তরের পর ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে গাজায় এ পর্যন্ত ৫৬ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
ইসরায়েলি অভিযানের ফলে গাজার ২৩ লাখ মানুষের প্রায় সবাই বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ওই অঞ্চলজুড়ে খাদ্য, পানি, ওষুধ সংকট চরমে পৌঁছেছে। জাতিসংঘ বলছে, “গাজা এখন বসবাসের অযোগ্য।





