চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে মালামালের গুদামে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সাত সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
তাদের দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনাটি নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) দুপুরে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব সংবাদ সম্মেলন করেন। এসময় উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন তিনি।
গ্রেফতারদের মধ্যে ঢাকার সাভার ও কেরানীগঞ্জ থেকে ছয়জন এবং লক্ষ্মীপুর জেলা থেকে আরও একজনকে বুধবার রাতে গ্রেফতার করে শাহরাস্তি থানা পুলিশ। এর আগে গত ৮ জুলাই শাহরাস্তি পৌরসভার ঠাকুর বাজারে একটি গুদামে দারোয়ানের হাত-পা বেঁধে সার্টার ভেঙে ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সুপার জানান, এই দুর্ধর্ষ ডাকাত দলের কাজ হলো দেশের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে প্রথমে শিকার খোঁজা, পরে টার্গেট নির্ধারণ করে পরিকল্পিতভাবে ডাকাতি করা। তারই অংশ হিসেবে শাহরাস্তিতে তারা গুদামের দারোয়ানের হাত-পা বেঁধে প্রায় ৩০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে পালিয়ে যায়। পরে তারা ডাকাতি করা প্রায় সব মালামালই অন্যত্র বিক্রি করে দেয়।
পুলিশ সুপার আরও জানান, অভিযানে বেশ কিছু লুট করা মালামাল, তিনটি মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে। এই সাত ডাকাতের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক ডাকাতির মামলা রয়েছে।
চাঁদপুর জেলা পুলিশের মুখপাত্র, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. লুৎফর রহমান জানান, পেশাদার এবং দুর্ধর্ষ প্রকৃতির এই ডাকাত দলের সদস্যদের ঢাকা জেলা পুলিশের সহায়তায় শাহরাস্তি থানা পুলিশের একটি দল গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতাররা হলেন: লক্ষ্মীপুর সদরের টুমচর এলাকার মো. দেলোয়ার (৪০), ঢাকার কেরানীগঞ্জের সুবাড্ডার আব্দুল মালেক আকন (৬০), কুষ্টিয়ার কুমারখালির সোহেল রানা ওরফে শাওন (৩৯), ঢাকার আশুলিয়ার সাহাবউদ্দিন সাবু (৩২)। এছাড়াও অন্য তিন ডাকাত ঢাকা জেলা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার জানান, শাহরাস্তি পৌরসভার ঠাকুরবাজারে ‘পাটোয়ারী এন্টারপ্রাইজ’ নামে মালামালের একটি গুদামে গত ৮ জুলাই রাতে এ ডাকাতির ঘটনায় এমরান হোসেন বাদী হয়ে ৮-১০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অলি উল্লাহকে। পরবর্তীতে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ডাকাতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান শুরু করা হয়। তদন্তকাজে সহায়তা করেন উপপরিদর্শক আতোয়ার রহমান ও সহকারী উপপরিদর্শক মো. শহীদুল্লাহ্।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরের পর চাঁদপুর আদালতে এই চার ডাকাতকে হাজির করা হয়। আদালতে তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। পরে আদালতের নির্দেশে তাদের জেলা কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়।





