বৃহস্পতিবার, মে ১৪, ২০২৬
spot_img

৩ লাখ ৭৭ হাজার অতিক্রম করল সর্বজনীন পেনশন স্কীমের নিবন্ধন

দেশের সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় আগ্রহ বাড়ছে। গত ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত, ‘প্রবাস’ ‘প্রগতি’ ‘সুরক্ষা’ ও ‘সমতা’- এই চারটি স্কিমে মোট ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৫৪৫ জন নাগরিক নিবন্ধিত হয়েছেন। এ পর্যন্ত পেনশন তহবিলে জমা পড়েছে প্রায় ২৫৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা। অর্জিত মুনাফাসহ তহবিলের মোট বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ২৭৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকায়।

মঙ্গলবার (১২ মে) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ‘সর্বজনীন পেনশন স্কিমের অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা শীর্ষক সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সভায় জানানো হয়, দেশের সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এ ঋণের বিষয়ে বর্তমানে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে।

এ সময় ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের অন্তত একজন সদস্যকে পেনশন স্কিমের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রার কথাও তুলে ধরা হয়।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান সভায় সর্বশেষ অগ্রগতি তুলে ধরে বলেন, সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত করতে ইতোমধ্যে ৪৫টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি বিকাশ, নগদ ও টেলিটকের মাধ্যমে চাঁদা জমার সুযোগ রয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ে নিবন্ধন কার্যক্রমে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারগুলোও কাজ করছে।

সভায় অর্থমন্ত্রী সর্বজনীন পেনশন স্কিমকে আরও জনপ্রিয় ও জনবান্ধব করতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, গ্রাহকদের চাহিদা বিবেচনায় শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। একই সঙ্গে নমিনিদের জন্য আজীবন পেনশন সুবিধা নিশ্চিত করা এবং ‘প্রগতি’ স্কিমে আউটসোর্সিং কর্মীদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও ইতিবাচক মত দেন তিনি।

সভায় দেশের ভবিষ্যৎ জনমিতিক পরিবর্তনের চিত্রও তুলে ধরা হয়। জানানো হয়, বর্তমানে বাংলাদেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৮৫ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত। দেশে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর নির্ভরশীলতার হার ২০২৩ সালে ছিল ৯ দশমিক ৪ শতাংশ। যা ২০৫০ সালে ২৪ শতাংশ এবং ২০৭৫ সালে ৪৮ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বেসরকারি খাতের কর্মীদের বার্ধক্যকালীন আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘পেনশন ফান্ড’ গঠন বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। এই কর্মসূচি সফল করতে জনগণের আস্থা বৃদ্ধি, ব্যাপক প্রচারণা, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দক্ষ ও পেশাদার জনবল নিয়োগে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

সভায় জাতীয় অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারসহ অর্থ বিভাগ ও জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ

ঈদুল আজহার ছুটির প্রজ্ঞাপন জারি

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত,...

একনেকে অনুমোদন পেল পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে...

সোনিয়া গান্ধী হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরলেন

শারীরিক জটিলতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল ভারতীয় কংগ্রেসের...

আয়োজকরা শর্ত পূরন করলে বিশ্বকাপ খেলবে ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এবারের বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ...

জনপ্রিয়

সাকিব আল হাসানের গোপনে করা সিনেমার শুটিংয়ের ছবি প্রকাশ

গোপনে চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন সাকিব আল হাসান। কিন্তু সেই...

মহাত্মা আহমদ ছফার জন্মদিন

আজ স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তিমান ও দ্রোহী চেতনার লেখক...

নির্বাচন পিছিয়ে দিয়ে একটি গোষ্ঠী জাতির সর্বনাশ করতে চাচ্ছে: মির্জা আব্বাস

একটি গোষ্ঠী নির্বাচন পিছিয়ে দিয়ে জাতির সর্বনাশ করতে চাচ্ছে...

চট্টগ্রামে যান্ত্রিক ত্রুটি নিয়ে রানওয়েতে আটকে পড়ে হজযাত্রীদের ফ্লাইট

সৌদি আরবের মদিনা থেকে আসা হজযাত্রীদের একটি ফ্লাইট যান্ত্রিক...

চট্টগ্রামের রাউজান থেকে আজমানে গিয়ে আবাসন সম্রাট, অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন

চট্টগ্রামের রাউজানের জসিম উদ্দিন আবাসন-সাম্রাজ্য গড়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের...

ইরানে আদালত ভবনে জঙ্গি হামলা, নিহত ৫

ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সিস্তান-বালুচিস্তান প্রদেশের জাহেদানে একটি আদালত ভবনে সুন্নি...

অনলাইনেই হবে আমদানি-রপ্তানি শুল্ক-কর পরিশোধ

আমদানি-রপ্তানির শুল্ক-কর ‘এ চালান’ বা অটোমেটেড চালানের মাধ্যমে অনলাইনে...

রাখাইনে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছা, নিরাপদ, সম্মানজনক ও টেকসই প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে...
spot_img

এই বিভাগের আরো খবর

Popular Categories

spot_imgspot_img